Top Ad Space
Potential IT Theme https://pttheme.blogspot.com/2023/02/blog-post_23.html

দুধ চা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিয়েছেন তো?

Title Ad Space
কাজ করতে করতে ক্লান্তি চলে এলো। অভ্যাস বসে কিচেনে গিয়ে বানিয়ে আনলেন দুধ চা। অল্প সময়েই রিফ্রেশ লাগলো। কিন্তু হুট করে মাথা ব্যথা শুরু হলো। 
দুধ চা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
ভাবছেন, রেগুলার দুধ চা খাচ্ছেন, এমন তো কখনো হয় না! আসলে দুধ চা এমনই। যতই ভালো লাগুক, এর কিছু সাইড ইফেক্টও আছে। আজকে আপনাদের জানাবো দুধ চা পান করার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে। 

দুধ চা এর যত উপকারিতা 

ফ্রি রেডিক্যালস নিষ্ক্রিয় করতে হেল্প করে 

দুধ চা তে আছে catechins ও epicatechins নামে দুই ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। শরীরে প্রবেশ করা এক্সেস ফ্রি রেডিক্যালসগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে কাজ করে এগুলো। সেই সাথে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ ও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়। 

স্ট্রেস কমায় 

দুধ চা কে বলা হয় মুড বুস্টার। অতিরিক্ত কাজের চাপে অথবা দিন শেষে ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ দুধ চা আপনাকে দিবে অনেকখানি প্রশান্তি। দুধ চা তে স্ট্রেস লোয়ারিং প্রোপার্টিজ আছে। এতে থাকা chemical L-theanine এর কারণে মানসিক ও শারীরিক রিল্যাক্সেশন হয়, যার কারণে অল্প সময়ে মুড বদলে যায়। এতে থাকা অল্প পরিমাণ ক্যাফেইনের কারণে স্ট্রেস হরমোন রি-ব্যালান্স হয় এবং আপনাকে রাখে চাঙ্গা। 

এজিং প্রসেস স্লো করে 

আপনি যদি সৌন্দর্য সম্পর্কে সচেতন হোন, তাহলে আপনাকে জানিয়ে রাখি, দুধ চা তে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আপনার স্কিনের এজিং প্রসেস অনেকটাই ডিলে করে দিবে। দুধে থাকা প্রোটিন দুধে থাকা অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাট স্কিনে নিয়ে আসে গ্লো। সেই সাথে স্কিনে একনে বা ব্লেমিশ থাকলে সেটাও রিডিউস করতে হেল্প করবে। এক কথায়, দুধ চা আপনার ত্বককে করে তুলবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর। 

এনার্জির ভালো উৎস 

চায়ে দুধ মেশানো মানে তাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট যুক্ত হওয়া। তবে কমার্শিয়ালি যে চা খাওয়া হয়, সেগুলোতে প্রচুর চিনি থাকে। ঘরে বানানো চায়ে চিনি কম দিইয়ে খেলে সেটি বরং উপকারী বেশি। যেহেতু এনার্জির উৎস, তাই কার্বোনেটেড ড্রিংক্সের বদলে দুধ চা নিশ্চিন্তে বেছে নিতে পারেন। 

হাড় মজবুত করে 

দুধ চাতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত করে তোলে। যারা অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন তাদের জন্য দুশ চা বেশ উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম অ্যাবজর্ব করতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা ক্যালরির পরিমাণ জেনে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লো-ফ্যাট মিল্ক অ্যাড করতে পারেন। 

দুধ চায়ের সাইড ইফেক্ট 

ইনসমনিয়া দেখা দেয় 

অনেকেই ব্ল্যাক টি বানাতে দুধ ব্যবহার করেন। এমন দুধ চাতে ক্যাফেইনের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। যদি দুপুরের পর এমন চা পান করা হয়, তাহলে ইনসমনিয়ার সমস্যা হতে পারে। যদিও অল্প পরিমাণ ক্যাফেইনে তেমন সমস্যা হবে না, কিন্তু দুই কাপ বা তার বেশি পান করলে সমস্যা বাড়তে পারে। অনেকে দুধ ও চিনি একসাথে পান করাতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। 

দুশ্চিন্তা হয় 

দুধ চা বডিকে রিল্যাক্স রাখে। তবে এটি পান করার মাত্রা বেড়ে গেলে ব্রেইনের কেমিক্যাল ইমব্যালেন্স হয়, যার কারণে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। 

ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়

চা যদিও বডিকে ডিটক্সিফাই করে, তবু বেশি পান করলে বডিতে হিট ও কেমিক্যাল ইমব্যালেন্স হতে পারে। এর ফলে ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ। অতিরিক্ত চা পানে মুখে, ঘাড়ে ও বুকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

মাথা ব্যথা হতে পারে 

কাজের চাপে শুরু হলো মাথা ব্যথা। এই ব্যথা কমাতে এক কাপ দুধ চা বানিয়ে নিয়ে এলেন। কিন্তু ফল হলো উল্টো। বার বার দুধ চা পান করলে শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে যায়। সেই সাথে বাড়ে অস্বস্তি ও মাথাব্যথাও। অনেকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর সময় দুধ চা পান করেন। এমন পরিস্থিতিতে মাথা ব্যথা আরও বাড়তে পারে। 

ব্লাড প্রেসার ইমব্যালেন্স হয়ে যায় 

দিনে ১/২ কাপ দুধ চা হয়তো তেমন কোনো ক্ষতি করছে না, কিন্তু পরিমাণ বেড়ে গেলেই দেখা দিবে নানা সমস্যা। সার্কুলেশন, হার্ট হেলথ, ব্রেইন ও নার্ভ ফাংশন, ইমিউন সিস্টেম ভালো থাকে দুধ চা পান করলে। কিন্তু এর মাত্রা বেড়ে গেলে কী হবে? বেড়ে যাবে হার্ট রেট, ফলে বাড়বে ব্লাড প্রেসার। আবার এর উল্টোটাও হতে পারে। যেটাই হোক না কেন, শরীরের জন্য দুটোই খারাপ।

কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে

চা তে আছে ক্যাফেইন এবং  theophylline নামে এক ধরনের কেমিক্যাল। এর উপস্থিতি শরীরের জন্য ভালো। তবে মাত্রাতিরিক্ত চা শরীর ডিহাইড্রেটেড করে দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। 

ক্যাফেইনের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায় 

দুধ চা নিয়মিত পান করার আরেকটি কারণ হচ্ছে ক্যাফেইনের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া। আপনি যখন নিয়মিত এটি পান করবেন, দেখবেন চা ছাড়া আপনার আনইজি লাগছে। এতে আপনি আরও বেশি পান করেন। ফলে ধীরে ধীরে শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকে। 
টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়
প্রতিদিন বেশি পরিমাণে দুধ চা পান করার আগে চায়ে চিনির পরিমাণ জেনে নিন। খুব বেশি চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। 

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় 

অনেকেই আছেন যারা সকালে উঠে দুধ চা তো পান করেনই, আবার চায়ে মিশিয়ে নেন আদা। দুধ চায়ের সঙ্গে আদা জোট বেঁধে গ্যাসের সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। ঘুম থেকে উঠেই কড়া করে দুধ চা খাওয়ার অভ্যাসে পেপটিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

দাঁতে দাগ পড়ে যায় 

চায়ে থাকা ট্যানিন, দুধ এর সঙ্গে মিশলে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ট্যানিন আপনার ঝলমলে দাঁতে দাগছোপ ফেলে দিতে পারে। সকালে উঠেই খালি পেটে দুধ চা খেলে শরীরের টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। পাকস্থলীতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এর ফলে হজম, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

দুধ চা নিয়ে কিছু কমন প্রশ্ন ও উত্তর 

দিনে কতবার দুধ চা পান করা যাবে? 

এটার নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। তবে যেহেতু অতিরিক্ত পান করলে সাইড ইফেক্ট দেখা দিতে পারে, তাই সর্বোচ্চ ২/৩ বার পান করাই ভালো। যদি পেটে সমস্যা হয়, তাহলে ১/২ কাপ ই বেস্ট। দুধ চা পান করার পুরোটাই ডিপেন্ড করে আসলে আপনার শরীরের উপর। 

ঘুমানোর আগে দুধ চা পান করা কি ঠিক? 

গরম দুধ ভালো ঘুম হতে সাহায্য করলেও দুধ চা কিছুটা ব্যতিক্রম। এতে থাকা ক্যাফেইন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং বার বার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর অন্তত ২/৩ ঘন্টা আগে দুধ চা পান করলে ভালো।

দুধ চায়ের অভ্যাস কীভাবে কমানো যায়? 

আপনি যদি অতিরিক্ত দুধ চা পান করেন, তবে সেটির অভ্যাস অবশ্যই কমাতে হবে। এজন্য আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হোন। এরপর যখনই চায়ের ক্রেভিং হবে, তখন কোনো স্মুদি, ফলের জুস অথবা দুধ ছাড়া হারবাল টি বানিয়ে নিন। এতে ক্রেভিং কমে যাবে। 

আমরা অনেকেই দুধ চা পছন্দ করি। এক সময় এটি অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। আর সমস্যা শুরু হয় তখন থেকেই। যে কোনো খাবার খাওয়ার আগে যেমন ভাবতে হয়, তেমনই দুধ চা অতিরিক্ত পান করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে সেটা জেনেই বরং এর লাগাম টেনে ধরুন। 

প্রিয় পাঠক, আপনার চা কেন সুস্বাদু হয় কমেন্ট করে অন্যদের জানাবেন কি?
End Ad Space

Share this post:

0 Comments

Please read our Comment Policy before commenting. ??

Horizontal Ad Space

Notification