অ্যালোভেরা দিয়ে একসাথে ত্বক ও চুলের যত্ন ২০২৩ (সহজ উপায়)
অ্যালোভেরা দিয়ে একসাথে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া খুবই সহজ। ত্বক ও চুলের যত্ন নিতে কত ধরনের প্রোডাক্টই তো আমরা ইউজ করি। কিন্তু সব প্রোডাক্টই যে সমানভাবে উপকার করে তা কিন্তু নয়।
সেজন্য আমাদের ফিরতে হয় সেই প্রকৃতির কাছেই। কারণ বাজারে যত প্রোডাক্টই পাওয়া যাক না কেন, প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বক ও চুলের যত্ন নেয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এমনই একটি উপাদান অ্যালোভেরা। এই একটি পাতার মধ্যে লুকিয়ে আছে ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপকারী উপাদান। চলুন তবে কথা না বাড়িয়ে অ্যালোভেরা দিয়ে কীভাবে ত্বক ও চুলের যত্ন নেয়া যায় জেনে নেই।
এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা | রূপচর্চায় এলোভেরার উপকারিতা
অ্যালোভেরা ও নিমপাতা
আপনার ত্বকে যদি ইনফ্ল্যামেশন বা র্যাশ থেকে ইচিনেসের মতো সমস্যা হয় তাহলে অ্যালোভেরা ও নিমপাতার পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। মূলত ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়। শুষ্ক ত্বককে সফট করে তুলতে হেল্প করে অ্যালোভেরা। আর নিমপাতা দেয় ইচিনেস থেকে মুক্তি।
অ্যালোভেরা ও গোলাপজল
আপনার ত্বকে কি বলিরেখা, চোখের নিচে কালো দাগ দেখা দিচ্ছে? আবার ব্রণ চলে গেলেও রেখে যাচ্ছে দাগ? তাহলে এই দুটো উপাদান দিয়ে তৈরি পেস্ট হতে পারে আপনার জন্য বেস্ট একটি অপশন। অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল নিয়ে অথবা বাজার থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেলের সাথে কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ১৫/২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। মুখ ধোয়া শেষে ত্বক হয়ে উঠবে রিফ্রেশিং। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত একবার করুন।
অ্যালোভেরা ও মুলতানি মাটি
ত্বকের যত্নে মুলতানি মাটির ব্যবহার হয়ে আসছে বহু আগে থেকেই। ১ চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। যারা ত্বকে উজ্জ্বলতা কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় ভাবছেন, তারা রেগুলার এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। ফল পাবেন অল্প সময়ের মধ্যেই!
অ্যালোভেরা ও মধু
প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মধু আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী এ তথ্য তো সবারই জানা। এই উপাদানটি সমানভাবে উপকার করে ত্বকেও। আপনার ত্বক যদি বেশি অয়েলি হয়ে থাকে তবে অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব কমাতে এই দুটো উপাদান বেশ ভালো কাজ করবে।
অ্যালোভেরা ও ওটমিল
আমাদের ত্বকের উপরিভাগে মৃত কোষ থাকার কারণে ত্বক বেশি শুষ্ক লাগে। যার কারণে মুখে কোনো ধরনের মেকআপ তো বসেই না, বরং দেখতেও কিছুটা বয়স বেশি মনে হয়। এ সমস্যার সমাধান দিতে পারে অ্যালোভেরা ও ওটমিল। সহজ ভাষায় যাকে আমরা ওটস বলে চিনি। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ১ চা চামচ ওটমিল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার প্যাকটি ফেইসে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ১৫ মিনিট। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এই প্যাকটি খুবই উপকারী। সেই সাথে ফেরায় ত্বকের লাবণ্য।
অ্যালোভেরা ও আমন্ড অয়েল
ভাবছেন অ্যালোভেরার সাথে তেল মেশালে কী উপকার মিলবে? আমন্ড অয়েল সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে ত্বকের রাফনেস দূর করতে। এক কথায় ত্বক সফট ও কোমল রাখতে এই তেল বেশ কার্যকর। এই দুটো উপাদান একসাথে মিলিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে নরম ও কোমল। শুধু মুখের ত্বকের কথা বলছি না কিন্তু, চাইলে হাতে পায়েও এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যালোভেরা ও লেবুর রস
সূর্যের আলোতে বাইরে গেলে ত্বকের কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়। সেই সাথে ধীরে ধীরে ত্বকে দেখা যায় সান বার্ন। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব কমে আসে। আর এর সাথে লেবুর রস মেশালে ত্বকে ভিটামিন সি প্রবেশ করে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
অ্যালোভেরা দিয়ে চুলের যত্ন
চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
অ্যালোভেরা জেলের সাথে টক দই, মধু, অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলে অ্যাপ্লাই করে আধা ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্রতিটি উপাদান চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেশ ভালোভাবে কাজ করে।
চুলের ভলিউম বাড়াতে
নারিকেল তেল চুলের ভলিউম বাড়াতে হেল্প করে। আর অ্যালোভেরা জেলে থাকা উপাদানগুলোর কারণে চুল হয় সফট। এই দুটো উপাদানের সাথে মধু মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করলে একইসাথে চুলের ভলিউম বাড়বে, চুল হবে সফট ও কোমল।
চুল লম্বা করতে
অ্যালোভেরা জেল, ক্যাস্টর অয়েল ও মেথি গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করুন। ৩০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।
কন্ডিশনড চুল পেতে
খুব সহজেই এলোভেরা জেল দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়া যায়। ডিমের কুসুমে আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, যা চুলকে কন্ডিশনড করে। এর সাথে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করলে চুল হয়ে ওঠে নরম ও কোমল।
শুষ্ক চুলের সমস্যা কমায়
দিন দিন চুল শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে? এই শুষ্কতার সমস্যা কমাতে মধু, নারিকেল তেল ও অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার চুলে অ্যাপ্লাই করে অপেক্ষা করুন আধা ঘন্টা। চুল ধুয়ে ফেলার পর দেখুন চুলে কতটা পরিবর্তন এসেছে। শুষ্ক চুলের সমস্যা দূর হয়ে পেয়ে যাবেন প্রাণবন্ত চুল।
চুলের ঘনত্ব বাড়াতে
পেঁয়াজের রস যে চুলের জন্য উপকারী সেটা তো বেশ পুরনো কথা। এই উপকারী উপাদানটির সাথে এবার যোগ করুন অ্যালোভেরা। চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে ১ ঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন। যারা চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য তো এটা উপকারী বটেই, সেই সাথে চুলের ঘনত্ব বাড়ানো নিয়েও ভাবতে হবে না।
চুলের গোড়া শক্ত করতে
জবা ফুল ও অ্যালোভেরা দুটোই প্রাকৃতিক উপাদান। আর এই দুটো একসাথে চুলের গোড়াকে করে শক্ত ও চুলকে করে মজবুত। জবা ফুল পেস্ট করে তার সাথে জেল মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করুন। আধা ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই পেস্টের ব্যবহারে চুল হয়ে উঠবে মজবুত এবং বাড়বে চুলের সৌন্দর্য।
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে
মেহেদি যে চুলের জন্য উপকারী সেটা প্রমাণিত হয়েছে অনেক আগেই। অ্যালোভেরা জেলের সাথে মেহেদি পেস্ট করে মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করলে চুলের ভলিউম বাড়ে, চুল হয়ে ওঠে বাউন্সি এবং রুক্ষ ভাব কমিয়ে ফিরিয়ে আনে কোমলতা। আসলে চুলের জন্য এলোভেরার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।
খুশকি রোধে সাহায্য করে
এলোভেরার চুলের উপকারিতার মধ্যে খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায় রয়েছে। খুশকি কমবেশি আমাদের সবারই কমন একটি সমস্যা। আর এই সমস্যাকে দূর করার জন্য অ্যালোভেরা জেলের সাথে যুক্ত করুন অ্যাপেল সিডার ভিনেগার।
এতে থাকা অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান খুশকিকে দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া চুলের বৃদ্ধিতে, মাথার ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে সেটাও সারিয়ে তোলে।
চুল ময়েশ্চারাইজ রাখতে
মেথিতে আছে লেসিথিন নামক একটি উপাদান যা চুলকে ময়েশ্চারাইজড রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল ও মেথি একসাথে মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করলে চুল সফট হয়, পাতলা চুলের সমস্যা কমে।
অ্যালোভেরা এমন একটি উপাদান যেটি দিয়ে ত্বক ও চুলের একসাথে নিয়মিত যত্ন নেয়া সম্ভব।আশা করি ইতোমধ্যে আপনারা অ্যালোভেরা জেল চুলে ব্যবহারের নিয়ম বুঝতে পেরেছেন। যদি সরাসরি গাছের পাতা ইউজ করতে পারেন সেটা বেশি ভালো। তবে অনেকের এতে অ্যালার্জি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজার থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেল দিয়েও যত্ন নেয়া যায়। অন্য কোনোদিন এলোভেরা জেল চুলে ব্যবহারের নিয়ম আলোচনা করবো।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্ন নিন।

0 Comments
Please read our Comment Policy before commenting.